অ্যাকুপ্রেসার শব্দটি এসেছে অ্যাকুপাংচার থেকে, Acu-  কথার অর্থ_ সূচ, Pressure কথার অর্থ_ চাপ ৷ শরীরে বিশেষ বিশেষ বিন্দুতে চাপ দিয়ে রোগ নির্ণয়

ও নিরাময় করার বিশেষ চিকিৎসা পদ্ধতি ৷
 ৫০০০ বছর পূ্র্ব ভারতীয় মুনি ঋষিরা হাতের তালু ও পায়ের চেটোয় চাপ দিয়ে রোগের নিরাময় করতেন ৷
কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় _এই পদ্ধতি আমাদের দেশে সঠিক ভাবে সংরক্ষিত হয়নি ৷ পূর্বের এই চাপ বিদ্যা আধুনিক যুগে  অ্যাকুপ্রেসার নাম নিয়েছে ৷
হাতের তালুতে ও পায়ের চেটোয় অসংখ্য বিন্দু আছে যা আমাদের দেহের প্রতিটি স্নায়ু ও অঙ্গ-প্রতঙ্গের সাথে যুক্ত ৷ যখন হাতের তালুতে ও পায়ের চেটোয় চাপ দেওয়া হয় তখন শক্তির প্রবাহ বৃদ্ধি পায় এবং যদি কোথাও শক্তির প্রবাহের বাধা থাকে তাহলে সেই বাধা মুক্ত হয় ও শরীর সুস্থ হয়ে ওঠে ৷


মানবসমাজের কাছে ঈশ্বরের সর্বাধিক মূল্যবান উপহার হল অ্যাকুপ্রেসার চিকিৎসা বিজ্ঞান ৷ মানব শরীরে রোগ প্রতিরোধের এমন শক্তি আছে ,যা দিয়ে যে কোন রোগ প্রতিরোধ ও

প্রতিকার করা যায় ৷ যারা এই চিকিৎসার সান্নিধ্যে একবার এসেছেন তারা অনুভব করেছেন .. এই চিকিৎসা প্রকৃত অর্থেই প্রাকৃতিক ও স্ব-চিকিৎসা পদ্ধতি ৷ যার দ্বারা খুব সহজেই সাধারণ মানুষ নিজের শরীরের রোগ জানতে ও সারিয়ে তুলতে পারবে ৷ এছাড়া সবচেয়ে বড় সুবিধা হল মানুষ যে কোন অবস্থায় যে কোন পরিস্থিতিতে ব্যবহার করতে পারবে ৷

 অ্যাকুপ্রেসার চিকিৎসাটি দেহের জীবনী শক্তি (Life Force) ইংরাজিতে আমরা যাকে Bio Energy বলি, সঠিকভাবে প্রবাহমান রাখে ৷ সাধারণত রোগের কারন হল এই জৈব শক্তি ( Bio Energy) প্রবাহের অসাম্যতা |Bio Energy অসাম্যতার ফলে দেহাভ্যন্তরে হরমোন গ্রন্থি গুলি ঠিকভাবে কাজ করে না এবং বাইরের পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে পারেনা ৷

              যখন নির্দিষ্ট অ্যাকুপ্রেসার বিন্দুতে চাপ দেওয়া হয় তখন দেহের জৈব শক্তি প্রবাহের সাম্যতা আসে ও ধীরে ধীরে দেহের উন্নতি লক্ষিত হয় ৷

                  আমরা যারা সাধরন মানুষ যখনই কোনো শারীরিক অসুস্থতা বোধকরি তখন কোন ঔষধ খেয়ে তা প্রতিরোধ করার চেষ্টা করি, কিন্তু আধুনিক চিকিৎসার ক্ষেত্রে অনেক ক্ষত্রেই এর সঠিক ফল পাওয়া যায় না , সেই সঙ্গে অন্য রোগের উপসর্গ (side effect ) দেখা যায় ৷ অথবা ঔষধ খাবার সুদীর্ঘ কালিন অভ্যাস তৈরী করে দেয় , কিন্তু অ্যাকুপ্রেসার চিকিৎসার ক্ষেত্রে … প্রথমত বিনা ঔষধে কাজ হয় , দ্বিতীয় কোনো অভ্যাস তৈরী করেনা , তৃতীয়ত নিজের চিকিৎসা নিজেই করা যায় ,চতুর্থ কোনো side effect নেই ৷

এখনো স্বাধীন ভারতবর্ষে , অনান্য দেশের তুলনায় সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য সচেতনতা অনেক-কম , সেই কারনে যে সব ঔষধ অনান্য দেশে Reject / চলেনা , সেই ঔষধ ভারতবর্ষে মানুষ মুড়িমুড়কির মত খাচ্ছে ৷ আর

বলছে আরো দাও ঠিক যেন হচ্ছেনা ৷ আর আমাদের  ভারতবর্ষের এই ধরনের মুল্যবান চিকিৎসা পদ্ধতি গুটি কয়েক মানুষ ছাড়া  ভারতবর্ষের মানুষ নামটাই শোনেনি ৷

কিন্তু ভারতবর্ষের এই বিদ্যা বৌদ্ধ সন্যাসীর হাত ধরে শ্রীলঙ্কা…চীন… জাপান ও আমেরিকাতে পৌছায় ৷ চীনেরা এটিকে গবেষনা করে অ্যকুপাংচার নাম দেয় , আজ আমেরিকার অনেক MD ডাক্তার ও প্রাকৃতিক চিকিৎসক এই পদ্ধতি প্রয়োগ করেন ৷

 প্রকৃত অর্থে অ্যকুপাংচার ও অ্যাকুপ্রেসারের মধ্যে মুল ভাবনা এক, কেবল ব্যবহারিক প্রয়োগ আলাদা ৷  অ্যকুপাংচারে সুচের প্রয়োগ করা হয় , অ্যাকুপ্রেসারের ক্ষেত্রে জিমি বা আঙ্গুল দিয়ে চাপ দেওয়া হয় , অথবা ছোট ছোট চুম্বক ব্যবহার করা হয় ৷

সেই অর্থে বর্তমানে অ্যাকুপ্রেসারের গ্রহন যোগ্যতা ও প্রচার বৃদ্ধি প্রয়জনিয়তা অনেক বেশি ৷